খুলনা

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে আর কোনো নির্যাতন-গুম নয়: খুলনায় আন্তর্জাতিক দিবসে মানববন্ধনে বক্তাদের দাবি”

দেশ বাংলা নিউজ ডেস্ক

রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক আর কাউকে

নির্যাতনের শিকার দেখতে চাই না

 

# খুলনায় নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবসে বক্তারা

 

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রীয় বাহিনী কর্তৃক আর কাউকে নির্যাতনের শিকার দেখতে চাই না, চাইনা আর কেউ গুমের শিকার হোক। লঙ্ঘণ হোক কারও মানবাধিকার। সবাই যেণ তার অধিকার নিয়ে সম্মান, মর্যাদা আর ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে বেঁচে থাকতে পারেন-এমনটাই প্রত্যাশা। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’ খুলনা ইউনিট এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধন ও সমাবেশে সভাপতিত্ব এবং দিবসের বিবৃতি পড়ে শোনান করেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার খুলনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন সিনিয়র সাংবাদিক মুহাম্মদ নূরুজ্জামান। সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক নেতা ও অধিকারের হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার কেএম জিয়াউস সাদাত। প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান।

সমাবেশ থেকে সম্প্রতি মোংলায় কোষ্টগার্ডের বিরুদ্ধে ওঠা শেখ মিরাজ নামক একজন গুমের শিকার জেলেকে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার স্ত্রী, বোন মায়ের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের কারামুক্তির দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পুলিশ কর্তৃক দুই চোখ উপড়ানো যুবক শাহাজালাল এবং র‌্যাব কর্তৃক গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইমরান হোসেনসহ নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ এবং অভিযুক্ত আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন ও সমাবেশে অধিকার’র বিবৃতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে দেশের সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দলীয়করণের মাধ্যমে আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। ফলে বিরোধী রাজনৈতিকদলের নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী এবং সাধারণ নাগরিকরা বিচারিক হয়রানী, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরনের নিপীড়ণের শিকার হয়েছিলেন। ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্র্বতী সরকার প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনগত সংস্কারের জন্য ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করে। এরমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন অধ্যাদেশ, অম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশসহ ১৬টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ সংসদে বিল আকারে উত্থাপন না করায় তা বাতিল হয়ে যায়। গুরুত্বপূর্ণ এ অধ্যাদেশগুলো বাতিলের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানের আদলে ফিরিয়ে নেয়া হলো: যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করার মধ্যে দিয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং দেশের জনগণের প্রতি সীমাহীন অন্যায় করা হয়েছে। মানবাধিকার এবং সুশাসন ছাড়া একটি দেশ কিছুতেই এগিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সংস্কার এবং ন্যায়বিচারের লক্ষে বর্তমান সরকারকে বাতিলকৃত অধ্যাদেশগুলোর আদলে কার্যকরী আইন প্রণয়ন করে অবিলম্বে জাতীয় সংসদে পাশ করতে হবে। এছাড়া অধিকার প্রকৃত অর্থে একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশন গঠনসহ নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন এবং এর অপশনাল প্রোটোকলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছে।

বক্তৃতা করেন, বাংলাদেশ মানিবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার জেলা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম, যুব সংহতি আন্দোলনের খুলনা জেলা আহবায়ক মুনীর চৌধুরী সোহেল, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সংগ্রামের খুলনা ব্যুরো প্রধান আব্দুর রাজ্জাক রানা, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রবিউল ইসলাম পলাশ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু হারুনার রশিদ, মানবাধিকার কর্মী শেখ আবুল হালিম, খুলনা জেলা ব্লাড ব্যাংকের সভাপতি শেখ ফারুক, কবি নাজমুল তারেক তুষার, পুলিশ কর্তৃক দুই চোখ উপড়ানো যুবক শাহাজালাল, র‌্যাব কর্তৃক গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ফিরে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইমরান হোসেন। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম, শিক্ষক মো. শাহিনুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জি এম মহিউদ্দিন, খুলনা জেলা ব্লাড ব্যাংকের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম সোহরাব হোসেন, মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম, সাংবাদিক এম এ আজিম, হাফেজ মুহাম্মদ কামরুজ্জামান, মো. সাকাওয়াত হোসেন স্বপন, মো. মোস্তফা জামাল রিপন, মো. ফাহাদ ইসলাম, মো. তাসনিম হোসেন আফ্রিদি, রাহিলা বেগম, মো. রায়হান মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ইমরান, সাংবাদিক ইমরুল ইসলাম ইমন, এস এম জসিম উদ্দিন, ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন রাজু প্রমুখ।

#দেশবাংলানিউজ

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button