রূপসায় ভূমি অফিসের নায়েবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, ১১ মাসের বেতন বকেয়া রাখার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা:
খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মো. জালাল হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ, ঘুষ গ্রহণ এবং ১১ মাসের বেতন বকেয়া রেখে এক অস্থায়ী কর্মচারীকে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই ভূমি অফিসের সাবেক অস্থায়ী নৈশপ্রহরী মো. হাবিবুর রহমান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগপত্রে হাবিবুর রহমান উল্লেখ করেন, তিনি প্রায় ছয় বছর দুই মাস নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার কাম নৈশপ্রহরী হিসেবে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালের ২১ জুন তৎকালীন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আবুল বাসার তাকে নিয়োগের সুপারিশ করে রূপসা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর পত্র দেন। পরে একই বছরের ১ জুলাই তিনি কাজে যোগ দেন। রাতের বেলায় অফিস পাহারার জন্য তাকে অফিসের চাবিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাবিবুরের দাবি, শুরুতে দৈনিক ১০০ টাকা হিসাবে মাসে তিন হাজার টাকা বেতন দেওয়া হতো। কিন্তু নিয়োগপত্রে প্রকৃত বেতন কত নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা তিনি জানতে পারেননি। অভিযোগ অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করলেও ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ১১ মাসের মোট ৩৩ হাজার টাকা পারিশ্রমিক বকেয়া রয়েছে।
সরকারি সম্পদ ও গাছের ফল নিয়ে অভিযোগ
লিখিত অভিযোগে হাবিবুর রহমান দাবি করেন, নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ব্যবহৃত একটি টিউবওয়েল সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জালাল হোসেন নিজের খুলনা শহরের সম্পত্তিতে ব্যবহারের জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন। এ সময় তিনি বাধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন। পরে টিউবওয়েলটি আবার অফিসে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া ভূমি অফিসের দক্ষিণ পাশে পতিত জমিতে ফসল চাষের অনুমতি নিয়ে তিনি বিভিন্ন ফসল ও সজনে গাছ লাগিয়েছিলেন বলে দাবি করেন হাবিবুর। তার অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে ওই গাছের সজনে অন্যদের দিয়ে সংগ্রহ করা হলেও তাকে কোনো অংশ দেওয়া হয়নি। একইভাবে তার লাগানো পেঁপেও অফিসের এক কর্মচারীর মাধ্যমে পেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অফিসসংলগ্ন জলাভূমিতে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন হাবিবুর। তার দাবি, এসব ঘটনার পর থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় এবং একপর্যায়ে তাকে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী
অভিযোগপত্রে হাবিবুর রহমান দাবি করেন, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জালাল হোসেনের সঙ্গে দুই ব্যক্তি—মো. রবিউল ইসলাম ও মো. আব্দুর সবুর—নিয়মিত অফিসে আসতেন। তাদের মাধ্যমে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
হাবিবুরের অভিযোগ, অফিসে দায়িত্ব পালনকালে এসব বিষয় জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে অফিসের চাবি রেখে তাকে বের করে দেওয়া হয় এবং তার বকেয়া পারিশ্রমিকও পরিশোধ করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোমবার রাত ৭টা ৫০ মিনিটে নৈহাটী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. জালাল হোসেনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করলেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
এ বিষয়ে রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিফাতুল ইসলাম বলেন, “এখনও আমি অভিযোগ হাতে পাইনি। তবে অভিযোগ দিয়ে থাকলে তদন্ত করে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান তার বকেয়া ৩৩ হাজার টাকা পরিশোধ এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
#deshbanglanews










