খুলনা

খুবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ: ৬ মাসেও মেলেনি প্রতিকার, এবার রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ

নিজস্ব প্রতিবেদন

# এবার রাষ্ট্রপতি ও মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর অনুলিপি প্রেরণ
# এর আগে অভিযোগ দিলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি
স্টাফ রিপোর্টার : স্ত্রী কর্তৃক খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ভরণ-পোষণ না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ করা হলেও এখনো কোন প্রতিকার হয়নি। এ ঘটনায় আবারও তার স্ত্রী মোছাঃ মাহবুবা নাসরীন কেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর নতুন করে লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ অভিযোগ পত্রটি প্রেরণ করা হয়।
এর আগে প্রায় ৬ মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে কোনো ফলাফল পাননি ভুক্তভোগী স্ত্রী।
উল্লেখিত বিষয়টি সুষ্ঠভাবে তদন্ত করে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এবার রাষ্ট্রপতি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চেয়ারম্যান, খুলনা জেলা প্রশাসকসহ খুবির বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুলিপি প্রেরণ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী মাহবুবা নাসরীন কেয়া, শিক্ষক আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান-এর স্ত্রী। তিনি বর্তমানে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘ বৈবাহিক জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে-পুত্র সন্তান আতিফ আব্দুল্লাহ খান (১৮) এবং কন্যা আরশি ইয়ানা খান (১২)।
লিখিত অভিযোগে দাবি করা হয়, তার স্বামী আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান পরনারীতে আসক্ত, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে তিনি
(স্ত্রী) ও সন্তানেরা তার দ্বারা মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হয়ে আসছেন। এতে করে সন্তানদের ওপরও গুরুতর মানসিক প্রভাব পড়েছে এবং তাদের চিকিৎসক এবং
সাইকিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নিতে হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছেলে আতিফকে পরপর কানে থাপ্পড় মারার ফলে তার কানের পর্দায় ছিদ্র হয় এবং পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসা নিতে হয়।
এর আগে এ বছরের ২২ ফেব্রুয়ারী রেজিস্টার্ড ডাকযোগে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ দাখিল করা হয়। ১৪ এপ্রিল ই-মেইলের মাধ্যমে এবং ১৮ এপ্রিল পুনরায় রেজিস্টার্ড ডাকযোগে অভিযোগ প্রেরণ করা হয়। কিন্তু অদ্যাবধি কার্যকর কোনো প্রতিকার বা তদন্তের ফলাফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে পুনরায় লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান পারিবারিক ও আইনগত বিরোধের জের ধরে গত সেপ্টেম্বর-২০২৫ সালে কেয়া’র স্বামী তার বৃদ্ধ বাবা-মা এবং ভাইয়ের বিরুদ্ধে দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় তিনি ৪ মে জবাব দাখিল করেন।
অন্যদিকে, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যমে স্ত্রী কেয়াকে তালাক দেওয়া হয়েছে বলে প্রচার করছেন। অথচ তিনি কোনো তালাকনামা বা তালাকের নোটিশও পাইনি। পরবর্তীতে কেয়াকে ও তার সন্তানদের বাসস্থান থেকে উচ্ছেদ করার উদ্দেশ্যে হয়রানিমূলক ভাবে জিডি করা হয়েছে বলে তার অভিযোগ। এছাড়াও তাকে ও তার সন্তানদের প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ রয়েছে। তার দায়ের করা ফৌজদারি মামলায় তিনি গত ২৩ জুলাই প্রথম দফায় জামিন গ্রহণ করেন। বর্তমানে শিক্ষক বাবা আবু সাঈদ খান দুই সন্তানের প্রয়োজনীয় ভরণপোষণ নিয়মিতভাবে প্রদান করছেন না। ফলে সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান ও দৈনন্দিন ব্যয় তার এককভাবে বহন করতে হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্তর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে ভরণপোষণের অর্থ আদায় এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলা চলমান রয়েছে।…

স্ত্রী মাহবুবা নাসরীন কেয়া অভিযো করে বলেন, বিগত প্রায় ছয় মাসে উল্লিখিত মামলায় একাধিকবার শুনানি অনুষ্ঠিত হলেও আবু সাঈদ খান বা তার নিযুক্ত কোনো আইনজীবী যথাযথভাবে হাজির না হওয়ায় মামলাগুলোর কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা বা অন্যায় সুবিধা প্রত্যাশা করছেন না। শুধু একজন স্ত্রী ও দুই সন্তানের মা হিসেবে নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার, মর্যাদা এবং আইনানুগ প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান গণমাধ্যমকে এর আগে দেওয়া বক্তব্য বলেন, উনার সাথে আমার সম্পর্ক নেই, ডিফোর্স হয়ে গেছে। তিনি যে অভিযোগ করেছেন তারও কোন সত্যতা নেই। যেহেতু পারিবারিক বিষয়, এটা আদালতে সাব জুডিশিয়াল মেটার হিসেবে আছে।
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম স্ত্রী কেয়ার অভিযোগপত্র প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে এর আগে বলেছিলেন, বিষয়টি তাদের পারিবারিক। এ কারণে পারিবারিকভাবেই মিমাংশা বা মিটিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। তা নাহলে এটা নিয়ে সবারই মান-সম্মান যাবে। বিশেষ করে তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্কের বিচ্ছেদ হওয়ায় স্ত্রী’র পাওনা দেনমোহর, খোরপোশ এবং সন্তানদের ভরণ-পোষণ অবশ্যই দিতে হবে-উল্লেখ করে এ বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
#খুলনা_বিশ্ববিদ্যালয়, #খুবি_শিক্ষক, #আবু_সাঈদ_খান, #পারিবারিক_নির্যাতন, #ইউজিসি, #খুলনা_নিউজ, #মাহবুবা_নাসরীন_কেয়া

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button