খুলনাঞ্চলখুলনা

এবার খুবি’র শিক্ষক আবু সাঈদের বিরুদ্ধে নারী  ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা 

স্টাফ রিপোর্টার

 

# ন্যায়বিচারের দাবি ভুক্তভোগী নারীর

# সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি

# দফায় দফায় অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার না পেয়ে অবশেষে আদালতে মামলা!

 

স্টাফ রিপোর্টার : খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞ ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলাটি দাখিল করা হয়।

১৯ এপ্রিল স্ত্রী মোছাঃ মাহবুবা নাসরীন কেয়া তার স্বামী ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, আসামী আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে আদালত শমন পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের ধার্য্য তারিখ

আগামী ২৩-৬-২০২২৬।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই

আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খানের সাথে মোছাঃ মাহবুবা নাসরীন কেয়ার ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রেজিস্ট্রি কাবিননামা অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। সংসার জীবনে পুত্র সন্তান ও একটি কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহণ করেন।

বিবাহের কিছু দিন আসামী আবু সাঈদ খান তার স্ত্রীর  সাথে ভালো ব্যবহার করেন। পরে আসতে আসতে আসামীর আসল চেহারা ফুটে উঠে।

একপর্যায়ে আসামী বিভিন্ন সময় স্ত্রীর নিকট যৌতুক দাবি করেন। বাদী দিতে অস্বীকার করলে আসামী আবু সাঈদ শারীরিক ও মানসিকভাবে তাকে নির্যাতন করেন।

 ভুক্তভোগী নারী কেয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সেসিপ প্রকল্পে যোগদান করে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার পদে কর্মরত রয়েছেন। তার স্বামীর দাবীর প্রেক্ষিতে স্ত্রী তার বেতনের টাকা থেকে একটি অংশ দিতে বাধা হতেন।

টাকা না দিলে নির্যাতন করতেন। বাদিনীর ছেলে এবং মেয়ে বাদিনীর উপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে আসামী ছেলেমেয়েকেও মারধর করতেন।

চলমান বছরের ৩ এপ্রিল আসামী আবু সাঈদ খান বিদেশ ভ্রমনের জন্য বাদিনীর নিকট থেকে ১৫ লাখ টাকা দাবী করেন। বাদিনী আসামী আবু সাঈদের দাবী মোতাবেক টাকা দিতে অস্বীকার করায় বাদিনীর চুলের মুঠি ধরে কিল-ঘুষি মারেন এবং বাদীর তলপেটে স্বজোরে আঘাত করে আহত করেন।

আহত কেয়া তার চিকিৎসার জন্য ৩ এপ্রিল শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক বাদিনীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং ব্যাথা উপশমের জন্য ইনজেকশন দেন এবং ঔষধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।

এমনকি আসামী বাদিনীর নিকট যৌতুক বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবী করে এবং যৌতুক না দেওয়ায় মারধর ও নির্যাতন করে।

উত্ত বিষয়ে বাদিনী স্থানীয় ঢাকা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা গ্রহণ না করে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করার জন্য তাকে পরামর্শ দেন। পরে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন।

আসামী আবদুল্লাহ আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০২৫) এর ১১(গ) ধারার অপরাধ আমলে এনে তার বিরুদ্ধে প্রেফতারী পরোয়ানার মাধ্যমে আসামীকে জেল হাজতে আটক করে ন্যায় বিচারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নির্যাতিত নারী কেয়া।

এদিকে, এর আগে আবু সাঈদ খানের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহার প্রয়োগের বিভিন্ন অভিযোগের ঘটনায় তার স্ত্রী কেয়া খুবি’র উপাচার্য বরাবর আবারও লিখিত অভিযোগ করেছেন। গত (১৮ এপ্রিল) অফিসিয়াল রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ অভিযোগ পত্রটি প্রেরণ করা হয়। একইভাবে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবরও অভিযোগের কপি পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন দপ্তরে বার বার লিখিত অভিযোগ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোন প্রতিকার পাইনি ভুক্তভোগী নারী।

ভুক্তভোগী মাহবুবা নাসরীন কেয়া বলেন, স্বামীর উল্লিখিত কর্মকান্ডের বিষয়ে পূনরায় খুবির উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছি। তিনি নিজেই আদালতে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার’র মামলা করেছেন। আবার তিনি অত্যন্ত জঘন্যভাবে বিভিন্ন মহলে ও প্রচার মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছেন যে আমাদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে। যেটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।…..

তিনি বলেন, আমি এখনও পর্যন্ত কোনো আইনানুগ তালাকনামা বা নোটিশ পায়নি। মামলা চলমান রেখে বাহরে তালাকের কথা প্রচার করাটা আদালত অবমাননা ও বড় ধরনের প্রতারণার শামিল। তিনি একজন শিক্ষক ও ডিসিপ্লিন চেয়ারম্যানের এমন জঘন্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।….

যদিও, স্ত্রী’র এসব অভিযোগ অস্বীকার করে খুবির শিক্ষক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ খান বলেন, আমি এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। কারণ তিনি এখন আমার হাউজ ওয়াইফ না, তাকে ডিফোর্স দিয়েছি।

তবে, ছাত্রীদের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একজন শিক্ষক আমার বাসায় ছাত্রী আসতেই পারে। তিনি যেটা বলছেন তার কোন সত্যতা নেই।

আদালতে নিজে ‘দাম্পত্য অধিকার পুনরুদ্ধার মামলা করে আবার ডিফোর্স দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এটা আদালতের বিষয়।

#দেশবাংলানিউজ #deshbanglanews

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button