করোনায় দিন দিন বাড়ছে বেকারত্ব

করোনায় দিন দিন বাড়ছে বেকারত্ব

করোনাভাইরাসের ধাক্কায় বিশ্ববাজারের পাশাপাশি টালমাটাল দেশের চাকরির বাজারও। শুধু দেশীয় প্রতিষ্ঠান নয়, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোতে বেকারত্বের হার বাড়ায় সেসব দেশের বহুজাতিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরতরাও চাকরি হারাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্থিরতার প্রভাবে বেশি ভুগবে প্রবাস আয় (রেমিটেন্স) ও রফতানি নির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতি। তাই অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করার পরামর্শ তাদের।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অনেকে শুধু করোনার সঙ্গেই নয় যুদ্ধ করছেন ক্ষুধার সঙ্গেও। অনেকেই দিতে পারছেন না ছেলে-মেয়ের চাওয়া ৫-১০ টাকাও। অনেকেরই অফিসিয়াল কার্যক্রম চললেও নেই বেতন-ভাতা। তাই তো অনেকেই ছাড়ছেন মায়া জড়ানো এই রাজধানী শহর ঢাকা।
স্বপ্নের এই ঢাকা শহর বহু আশার হাতছানি। টাকার হিসেবে বিকোয় সব মৌলিক প্রয়োজন। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে পাওয়া চাকরিটিও ছুটে যাওয়ায়, নিঃস্ব হয়ে আবার ফিরে যাওয়া। কারও কারও তো, ফেরার উপায়ও থাকে না।
বড়-ছোট বা মাঝারি, করোনায় সৃষ্ট সংকটে বিনা নোটিশে সংকুচিত জীবনে আরও সংকুচিত হচ্ছে দেশি বা বিদেশি সব ধরণের চাকরির বাজার।
অর্থনীতি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট বলছে, করোনায় চাকরি হারাতে পারেন দেশের অন্তত দেড় কোটি মানুষ। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রতিষ্ঠান নয়, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর চাকরিচ্যুত ও বেকারত্ব পরিস্থিতিও হতাশাজনক। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) বলছে, আগামী তিন মাসে বিশ্বে সাড়ে ১৯ কোটি মানুষ তাদের চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। যার মধ্যে সাড়ে ১২ কোটির বসবাস এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে। যাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এ ব্যাপারে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের বক্তব্য, দেশের শ্রমবাজার ইতোমধ্যে কিন্তু নানা সমস্যায় জর্জরিত। আমরা জানি, শ্রমবাজারের ৮৫ ভাগের বেশি অনানুষ্ঠানিক খাত। এর সঙ্গে দেশের বাইরে থেকে ফিরে এসে সেই শ্রমিকরা যদি অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে যোগ দেয় তাহলে কিন্তু শ্রমবাজারের ওপর অতিরিক্ত চাপ আসবে।

বিশ্ববাজারের মন্দা কাটাতে কর্মী ছাঁটাইকেই একমাত্র প্রতিরক্ষা নীতি হিসেবে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এই বেকারত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে পণ্য ও শ্রম রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতির দেশগুলো।

অর্থনীতিবিদ ড. তৌফিকুল ইসলাম খানের মতে, বৈদেশিক বাণিজ্যমুখী বাংলাদেশে যে দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে সেই সঙ্গে দেশের ভেতরের চাহিদা মাথায় রেখে অর্থনৈতিক কাঠামোতে ভারসাম্য করার সুযোগ আছে এখন।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করার জন্য দীর্ঘমেয়াদে আমাদের অর্থনীতিকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, ১৬০ কোটি অস্থায়ী কর্মী ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বে। বছরের দ্বিতীয় ভাগে এই ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩০ কোটি ৫০ লাখ পূর্ণকালীন চাকরির সমান।
দেশ বাংলা নিউজ

দেশ বাংলা নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *