উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আন্দোলন, সংগ্রাম, স্বাধীনতাসহ সর্বক্ষেত্রে সফল হয়েছে। যার প্রধান কারিগর ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তার নেতৃত্বে প্রবল প্রতিকূল পরিবেশে ১৯৪৯ সালের আজকের দিনে বাংলাদেশের রাজধানী পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে এক কর্মী সমাবেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পথচলা শুরু হয়। দীর্ঘ পথচলার জন্যই এমন স্বপ্নের জন্ম। শুরু হয় অর্জনের তালিকা দীর্ঘ করার সংগ্রাম।

প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক। দলের দ্বিতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৩ সালে ময়মনসিংহে। এতে সভাপতি হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান।

’৫৮ সালে পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি হলে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড স্থগিত করা হয়। দীর্ঘ ছয় বছর ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ রাজনীতি করার পর ’৬৪ সালে দলটির কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে তর্কবাগীশ-মুজিব অপরিবর্তিত থাকেন। ১৯৬৬ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি পদে নির্বাচিত হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তাজউদ্দীন আহমদ। এর পরে ’৬৮ ও ’৭০ সালের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অপরিবর্তিত থাকেন। এই কমিটির মাধ্যমেই পরিচালিত হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ।

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রথম কাউন্সিলে সভাপতি হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। ’৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু সভাপতির পদ ছেড়ে দিলে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় এএইচএম কামারুজ্জামানকে। সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকেন জিল্লুর রহমান।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে বঙ্গবন্ধু যে পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছিলেন, তা তিনি বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি পরাজিত শক্তি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা পিছিয়ে দিয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আসে আওয়ামী লীগের ওপর মারণাঘাত। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে আওয়ামী লীগের রাজনীতি আবারো স্থগিত করা হয়।

’৭৬ সালে আওয়ামী লীগের ঐক্যরক্ষা ও পুনরুজ্জীবিত করতে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করে একটি আহ্বায়ক কমিটি করা হয়। ’৭৮ সালের কাউন্সিলে দলের সভাপতি করা হয় আবদুল মালেক উকিলকে এবং সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রাজ্জাক। শুরু হয় আওয়ামী লীগের উত্থানপর্ব, উপমহাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলার মূল প্রক্রিয়া।

চরম সেই সংকটাপন্ন অবস্থায় ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। দীর্ঘ ছয় বছরের নির্বাসন জীবন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয় বাঙালির ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম।

অনেক ঘাত-প্রতিঘাত আন্দোলন-সংগ্রাম জীবনদানের পর দীর্ঘ ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তখন থেকে দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই পাঁচ বছরের সময়কাল জাতির ইতিহাসে এক সুবর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসায় ‘বাংলাদেশ’ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির হাতে চলে যায়। জঙ্গি উত্থান ঘটিয়ে পুরো দেশকে পরিণত হয় মৃত্যুকূপে।

জননেত্রী শেখ হাসিনা সেদিন অনেক কিছুরই সমাপ্তি রেখা টানতে পারেননি, কিন্তু শুরুটা করেছিলেন। দেরিতে হলেও বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। বায়ান্নর ভাষা-আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাঙালির যত কিছু মহৎ অর্জন তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ‘স্বাধীনতা’। একটি জাতির কাছে একটি দেশের স্বাধীনতার চেয়ে বড় অর্জন আর কিছু হতে পারে না। বাংলাদেশ এখন স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছে।

বাংলাদেশ এখন বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আজ বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘উন্নয়নের রোল মডেল।’ রাজনীতির চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেখ হাসিনা আজ আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুকন্যার ঐতিহাসিক ভূমিকা জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে আজীবন স্মরণ করবে, করতে হবে। আজ উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

এই শুভদিনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পথ চলার ধারাক্রম নিয়ে গুণীজনের মতামত জানতে পারি- প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছেন- ‘বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামে সহায়ক শক্তি ছিল জনগণ এবং ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়ন। হাসিনার গণতন্ত্র উদ্ধারের সংগ্রামে সহায়ক শক্তি ছিল শুধু দেশের জনগণ। বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করার চেষ্টা হয়েছে। হাসিনার জীবনের ওপর গ্রেনেড হামলাসহ ছোট-বড় হামলা হয়েছে এগারোটি।

১৯৯৬ সালে হাসিনা যখন ক্ষমতা হাতে নেন, তখন দেশে জিয়া-এরশাদের কৃপায় তৈরি হয়েছে একটি দুর্নীতিবাজ নব্যধনী শ্রেণি। অধিকাংশ মসজিদ-মাদরাসা দখল করেছে জামায়াত। সেখানে ইবাদত ও প্রকৃত শিক্ষা দেয়ার বদলে ইসলামের জন্য জিহাদ- এই প্রচারণায় যুবকদের মস্তিষ্ক ধোলাই করে তৈরি করা হয় সন্ত্রাসী। দেশময় চলেছে হত্যার রাজনীতি। ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরে এসেও বিএনপি-জামায়াত দেশময় চালিয়েছে সন্ত্রাসের রাজনীতি। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে যুক্ত জিহাদিস্টরা।

শেখ হাসিনার দলের মধ্যেও ছিল চক্রান্ত। একদল প্রবীণ ও নবীন নেতা বারবার তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ব্যর্থ করে হাসিনা তিন-তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা তিনি এখনো গড়ে তুলতে পারেননি বটে, কিন্তু সেই স্বপ্নপূরণের পথে এক এক করে বাধাগুলো ভাঙছেন। বিএনপি দেশটিকে খাদ্যাভাবের ও দুর্ভিক্ষের দেশ হিসেবে রেখে গিয়েছিল।

সে দেশ আজ খাদ্যে স্বনির্ভর। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, যারা দেশের আইনের ঊর্ধ্বে এবং বিচারের বাইরের লোক বলে সবাই ভাবত, তাদের বিচার ও শাস্তি দিয়েছেন। দেশে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রেখেছেন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস কঠোর হাতে দমন করেছেন। দেশের অর্থনীতির মতো রাজনীতি এখন অনেকটাই স্থিতিশীল।

দেশে এবং বিদেশে হাসিনার শক্তিশালী নেতৃত্ব এখন স্বীকৃত। অনেকে বলেন, বাংলাদেশে তার নেতৃত্বের এখন কোনো বিকল্প নেই। স্বাধীনতার শত্রুদের প্রচারণা হলো হাসিনার শাসন একদলীয় শাসন। তিনি গণতন্ত্র উচ্ছেদ করেছেন। প্রচারণাটা সত্য নয়। তাকে গণতন্ত্র রক্ষার জন্যই কঠোর হতে হয়েছে। না হলে বঙ্গবন্ধুর মতো অনেক আগেই তাকে জীবন দিতে হতো। দেশেও গণতন্ত্র টিকত না। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য যতটুকু কঠোর হওয়া প্রয়োজন তিনি তাই হয়েছেন। তার বেশি নয়। শেখ হাসিনার কোনো ব্যর্থতা ও অসাফল্য নেই, আমি সে কথা বলছি না।’

বাঙালি বীরের জাতি, যুদ্ধ করে বাঁচতে জানে। দেশরত্ন প্রধানমন্ত্র শেখ হাসিনা বাঙালিকে যেমন স্বপ্ন দেখাতে পারেন তেমনি বাস্তবায়ন করেও দেখাতে পারেন। জনগণও সেই বিশ্বাসেই তার প্রতিটি সংগ্রামে সঙ্গে থাকেন, থাকবেন। সদ্যপ্রয়াত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের একটি লেখা থেকে জানা গেছে, ‘২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে শেখ হাসিনাকে। তাকে রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র শুরু হয়। সুশীল সমাজ নামধারী একটি গোষ্ঠী মাইনাস টু ফরমুলা দেয়। দলের অনেক নেতাও তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সেই ফরমুলা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্মীরা শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন বলেই তারা সে দিন সেই মাইনাস ফরমুলা বাস্তবায়ন করতে পারেনি।

বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে প্রমাণ হয়েছে, সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা নিবেদিতপ্রাণ কর্মীরাই আওয়ামী লীগের মূল শক্তি। যখনই আওয়ামী লীগ কোনো সংকটে পড়েছে, তখনই কর্মীরা দৃঢ়ইস্পাত ঐক্য গড়ে তুলে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করেছে। তীব্র জনমতের কাছে ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হয়। এরপর সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো আওয়ামী দেশ পরিচালনার সুযোগ লাভ করে।

সেই থেকে টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

মাথাপিছু আয় ১৭৫২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আমরা এখন স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করেছি। বাংলাদেশ এখন বিশ্বসভায় আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ঘাতকরা তাকে সেই সুযোগ দেয়নি।

বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ লাখ লাখ নেতাকর্মী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার পাশে থাকবে। এর মধ্য দিয়েই বাংলাদেশ কাক্সিক্ষত গন্তব্যে পৌঁছাবে।’

২০০৮ সালের ডিসেম্বর মাসে সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারো আওয়ামী দেশ পরিচালনার সুযোগ লাভ করে। সেই থেকে টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সেই স্বপ্ন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ লাখ লাখ নেতাকর্মী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তার পাশে থাকবে।

শেখ হাসিনার তিন মেয়াদে অনেক কীর্তির মাঝে নিশ্চিতভাবে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ অমর হয়ে থাকবে। পিতা বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন দেশ উপহার দিয়েছিলেন আর কন্যা সেই দেশের মানুষকে আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করেছেন। শেখ হাসিনার মেয়াদকালে দেশে উন্নয়ন হয়েছে, তা অস্বীকার করতে যেসব সুধীজন অহর্নিশ চেষ্টা চালান, তারাও কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দে পড়েন এবং কখনো কখনো ধান ভানতে শিবের গীত গাওয়ার চেষ্টা করেন। শেখ হাসিনা বর্তমানে শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন রাষ্ট্রনায়ক।

দেশ বাংলা নিউজ

দেশ বাংলা নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *