ফেনীতে করোনায় মৃত‌্যু সংখ‌্যা দাড়ালো ১১ জনে

ফেনীতে করোনায় মৃত‌্যু সংখ‌্যা দাড়ালো ১১ জনে
ডেস্ক রিপোর্ট:

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে ফেনীর সোনাগাজীতে সালাউদ্দিন বাবুল (২৮) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতকান্দি গ্রামের ভেন্ডর বাড়িতে মারা যান তিনি। তিনি স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ইংরেজী পড়াতেন। এ নিয়ে ফেনীতে করোনায় মৃত‌্যু সংখ‌্যা দাড়ালো ১১ জনে।

মৃতের বড় ভাই মোবারক হোসেন জানান, তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন। গত ৪ জুন সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তার নমুনা সংগ্রহ করা হলে পরীক্ষার ফলাফলে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। রবিবার বিকাল থেকে তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। রাতে সেটি প্রবল আকার ধারণ করে। রাত সাড়ে এগারটার দিকে তিনি মারা যান। মোবারক হোসেন বলেন, এর আগে গত ২ জুন আমিসহ আমাদের পরিবারের চার সদস্যের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। সেই থেকে আমরা আইসোলেশনে ছিলাম।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু জানান, স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় সরকারি নির্দেশনা মেনে তার দাফনের প্রস্তুতি চলছে। সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স’র আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আরমান বিন আবদুল্লাহ জানান, তিনি কিছুদিন আগে করোনা উপসর্গ নিয়ে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে আশানুরূপ চিকিৎসা না পেয়ে স্বজনরা তাকে বাড়ীতে নিয়ে আসে। তাদের একই পরিবারের ৫ জন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। বাড়িটি লকডাউন করা ছিলো। জেলায় এর আগে আরো ১০ জন করোনায় মারা গিয়েছিলো।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৯৫ জন শনাক্তকৃত করোনা রোগী রয়েছে। এর মধ্যে সদরে সর্বোচ্চ সংখ্যক শনাক্ত হয়েছে ১৭৯জন। শনাক্তকৃত সংখ্যার ভিত্তিতে জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দাগনভুঞা উপজেলায়। উপজেলায় এ পর্যন্ত মোট ১২০ জন শনাক্ত হয়েছে। এরপরে রয়েছে সোনাগাজীতে ৮১জন, ছাগলনাইয়ায় ৬২জন, পরশুরামে ২৪জন ও ফুলগাজীতে ২০জন। এছাড়া আরও ৮জন রয়েছেন ফেনী জেলার বাইরের বাসিন্দা, ফেনীতে তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বর্তমানে ১১ জন করোনা রোগী ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। অন্যরা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে হোম আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ১০জনকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।
করোনায় এখন পর্যন্ত জেলায় ১১ জন মারা গেছেন। আজ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১১২জন। সূত্র আরও জানায়, এ পর্যন্ত সংগৃহীত মোট ৩ হাজার ৬২৫টি নমুনার মধ্যে মধ্যে ২৭৭১টি নমুনার ফল পাওয়া গেছে। আজ নতুন করে পরীক্ষার জন্য আরও ২১৪টি নমুনা প্রেরণ করা হয়েছে। ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে ৮৫৪টি নমুনা। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ ৮৩টি নমুনার মধ্যে নতুন ২৯টি , গতকাল ১৫৯টি নমুনার মধ্যে ৫৫টি, ১২জুন ১৪৯টি নুমনার মধ্যে ৪১টি, ১১ জুন ২৫টি, ১০জুন ১৫১টি নুমনার মধ্যে ২৭টি, ৯জুন ৭টি, ৮জুন ৪৯টি, ৭ জুন ১৬টি নমুনা পজিটিভ এসেছে। ১৬ এপ্রিল জেলার ছাগলাইনাইয়া উপজেলায় এক যুবকের শরীরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। মাঝখানে আক্রান্তের হার সীমিত থাকলেও মে তে এসে তা লাফিয়ে লাফিয়ে ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। জুনে এসে তা দ্বিগুন হারে বাড়তে শুরু করেছে।
দেশ বাংলা নিউজ

দেশ বাংলা নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *