পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু;মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

পুলিশি হেফাজতে কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যু;মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ

মিনিয়াপোলিসে পুলিশের এক কর্মকর্তার হাতে নিরস্ত্র এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তির মৃত্যুর বিচার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।

শুক্রবারও বেশ কয়েকটি শহরে আন্দোলনকারীরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

এদিন হোয়াইট হাউসের বাইরে কয়েকশ বিক্ষোভকারী ৪৬ বছর বয়সী আফ্রিকান-আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।

মিনেসোটা, নিউ ইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।

গত সপ্তাহের সোমবার ফ্লয়েডের গাড়িতে জাল নোট থাকার খবর পেয়ে তাকে আটক করতে গিয়েছিল পুলিশ। সেখানেই পুলিশের এক কর্মকর্তা ফ্লয়েডের ঘাড়ের উপর হাঁটু দিয়ে তাকে মাটিতে চেপে ধরেন বলে এক ভিডিওতে দেখা গেছে।

সেসময় ফ্লয়েডকে ‘আমি শ্বাস নিতে পারছিনা’ বলতে শোনা যায়। অ্যাম্বুলেন্সে করে পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

৪৬ বছর বয়সী এ কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মিনিয়াপোলিস উত্তাল হয়ে ওঠে। মঙ্গল ও বুধবার বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ান। বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

উত্তেজিত প্রতিবাদকারীরা বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিসের একটি থানাও জ্বালিয়ে দিয়েছে।

মিনেসোটার গভর্নর অঙ্গরাজ্যের সবচেয়ে বড় এ শহরটিতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছেন।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনায় মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগ তাদের চার কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করে। এদের মধ্যে ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু তুলে দেয়া ৪৪ বছর বয়সী ডেরেক শভিনও আছে।

গ্রেপ্তার শভিনের বিরুদ্ধে শুক্রবার ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। সোমবার তাকে আদালতে হাজির করার কথা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘ভয়ানক ব্যাপার’ বলে অ্যাখ্যা দিয়েছেন। নিহত আফ্রিকান-আমেরিকানের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে হোয়াইট হাউসের কাছে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা ফ্লয়েডের ছবি হাতে বিক্ষোভ দেখান ও ‘আমি শ্বাস নিতে পারছি না’ স্লোগান দেন।

এ প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় হোয়াইট হাউস অস্থায়ীভাবে লকডাউন করে দেয়া হয়; গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ বাসভবনের প্রবেশ ও বেরিয়ে যাওয়ার পথগুলো বন্ধ করে দেন।

ফ্লয়েডের মৃত্যুর প্রতিবাদে টানা বিক্ষোভ চলা মিনিয়াপোলিস ও সেইন্ট পল শহরে শুক্র ও শনিবার রাত ৮ থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ দেয়া হয়েছে। দোকান লুটপাট ও ভবন-গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলস, শিকাগো, ডেনভার, হিউস্টন, লুইজভিল, ফিনিক্স, কলম্বাস ও মেম্ফিসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি শহরে শুক্রবার পুলিশের সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বিক্ষোভকারীরা আটলান্টায় বেশ কয়েকটি ভবনে ভাংচুর চালিয়েছে, পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে।

ডালাসে প্রতিবাদকারীদের ইট-পাথর ছোড়ার পাল্টায় পুলিশ টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়েছে।

দেশ বাংলা নিউজ

দেশ বাংলা নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *