» প্রেমিকাদের বয়স ২৫ হলেই সম্পর্ক ভেঙে দেন লিওনার্দো

প্রকাশিত: ০৭. সেপ্টেম্বর. ২০২২ | বুধবার

লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও। একনামে সবাই চেনে তাঁকে। হলিউডে টাইটানিক-এর মতো বহু ব্যবসা সফল সিনেমার নায়ক তিনি। জিতেছেন একাডেমি অ্যাওয়ার্ডও। বয়স এখন তাঁর ৪৭ পেরিয়েছে। বিয়ে করেননি। অনেকে বলেন, হলিউডের অন্যতম আকাঙ্ক্ষিত পুরুষ।
গণমাধ্যমের চোখ এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন মধ্যবয়সী এ সুদর্শন অভিনেতা। তবে ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হন। এই বয়সেও যে তরুণী ও কমবয়সী মডেলদের তাঁকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই তা লিওনার্দোর বান্ধবীদের তালিকা দেখলেই বোঝা যায়। তবে এ নিয়ে অনেকে বাঁকা কথাও বলেন।

লিওনার্দোর প্রেমিকাদের তালিকা নিয়ে সম্প্রতি রেডিটের একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে। লিওনার্দোর প্রেমের টাইমলাইন নিয়ে বানানো একটি গ্রাফে যেটি লক্ষ্য করার বিষয় সেটি হলো—বান্ধবীদের বয়স ২৫ বছর হলেই বিচ্ছেদ হয়ে গেছে! এ জীবনে তাঁর কোনো বান্ধবীর বয়সই ২৫-এর বেশি নয়।
গ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, লিওনার্দোর প্রথম প্রকাশ্য প্রেম হয় অষ্টাদশী জিসেল বুন্দচেনের সঙ্গে। ১৯৯৯ সালে তাঁরা ডেটিং শুরু করেন। কিন্তু ২০০৪ সালেই এ সম্পর্ক ভেঙে যায়। এরপর লিওনার্দোর জীবনে আসেন বার রাফায়েলি, তখন বয়স ২০ বছর। এ সম্পর্ক টিকে ছিল ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত। পরের বছরই সম্পর্কে জড়ান ২৩ বছরের ব্লেক লাইভলির সঙ্গে। সে সম্পর্ক সে বছরই ভেঙে যায়। একই ঘটনা ঘটে ২০১২ সালে ২২ বছর বয়সী এরিন হিদারটনের সঙ্গে। ২০ বছর বয়সী টনি গার্নের সঙ্গে লিওনার্দো ডেটিং শুরু করেন ২০১৩ সালে। এ সম্পর্ক ভেঙে যায় ২০১৪ সালে। ২০১৫ সম্পর্ক এবং সে বছরই ভেঙে যায় কেলি রোরবাকের সঙ্গে প্রেম। বলাবাহুল্য কেলির বয়স তখন ২৫ বছর। ২৪ বছর বয়সী নিনা আগডালের সঙ্গে ডেটিং শুরু ২০১৬ সালে। ২০১৭ সালে তাঁর বয়স ২৫ পূর্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়। সর্বশেষ আলোচিত সম্পর্ক ক্যামিলা মোরোনের সঙ্গে। ২০১৮ সালে ডেটিং শুরুর সময় তাঁর বয়স ছিল ২০ বছর। তবে এ বছর সম্পর্ক ভেঙে গেছে।

সর্বশেষ ইউক্রেনের মডেল মারিয়া বেরেগোভার (২২) সঙ্গে চুটিয়ে পার্টি করতে দেখা গেছে লিওনার্দোকে। ভাবা হচ্ছে, তিনিই লিয়োর নয়া বান্ধবী। দক্ষিণ ফ্রান্সের সেন্ট ট্রপিজে একটি বিলাসবহুল ইয়টে হইহুল্লোড় করে পার্টি করতে লিয়োর পাশেই দেখা গেছে মারিয়া বেরেগোভাকে। ২৫ বছরের ক্যামিলার সঙ্গে ২২ বছরের বয়সের ফারাক রয়েছে লিয়োর। এ নিয়ে কম কথা শুনতে হয়নি তাঁকে। মারিয়ার বয়স কিন্তু সবে ২২!
লিওনার্দো ক্রমে বার্ধক্যে উপনীত হচ্ছেন। কিন্তু প্রেমিকাদের বয়স স্থির থাকছে, তাঁর প্রেমিকারা যেন চিরকালীন ২৫-এর নিচে! সর্বশেষ বান্ধবী ক্যামিলার ২৫তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক মাস পরেই চার বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন তিনি।

এ নিয়ে কটাক্ষ করে দ্য গার্ডিয়ানে একটি নিবন্ধ লিখেছেন আরওয়া মাহদাবি। লেখক ও কৌতুক অভিনেতা মেরেডিথ ডিটজ এক টুইটে লিখেছেন, ‘আসলেই কি এমন ঘটে নাকি—একজন নারীর মস্তিষ্কের বিকাশ সম্পন্ন হলে, তখন বুঝতে পারেন যে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর সঙ্গে আর থাকা যায় না!’
বেশিরভাগ মানুষই হয়তো বলবেন, প্রজনন সক্ষম একজন পুরুষ প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করবেন তাতে আপত্তি করার কী আছে? বিবর্তনবাদও তো এটিকে সমর্থন করে।
মানুষের অভিজ্ঞতা বলে, সামগ্রিকভাবে পুরুষেরা অল্পবয়সী নারীরই সন্ধান করে। অবশ্য বিজ্ঞানীরা এখনও নিশ্চিত নন যে, এটি ‘প্রাকৃতিক’ প্রবণতা নাকি সামাজিক বা সাংস্কৃতিক ব্যাপার। কেউ কেউ বিশ্বাস করেন, বুড়োদের এমন হাঁটুর বয়সী মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর খায়েশ বিবর্তনীয় চাপেরই ফল। অন্যদের মধ্যে আইন বিশেষজ্ঞ ক্যাথারিন ম্যাককিনন মনে করেন, এটি ‘নারীকে অধস্তন করে রাখার মধ্যে যৌনতার খোঁজ’।
আরওয়া মাহদাবি এই কারণে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর মতো পুরুষদের ‘ভয়ঙ্কর বুড়ো’ বলে বর্ণনা করেন। ক্যাথারিন ম্যাককিননের ধারণার সপক্ষে কিছু পরিসংখ্যানগত প্রমাণ রয়েছে। যেমন বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, যেসব দেশে স্বামী-স্ত্রীর (যুগল) মধ্যে বয়সের ব্যবধান কম হয় সেসব দেশে লিঙ্গ সমতা বেশি। এ বিষয়ের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, লিঙ্গ সমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নারীরা বয়স্ক পুরুষ কম পছন্দ করতে শুরু করেন। পুরুষেরাও কমবয়সী নারীদের প্রতি ততোটা আকর্ষণ বোধ করেন না। ফলস্বরূপ যুগলের বয়সের পার্থক্য কমে আসে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১ বার

[hupso]