» ছেলেদের ছিনতাই করা ৩১ লাখ টাকা ফেরত পেলেন বাবা, ফের হামলার আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১১. সেপ্টেম্বর. ২০২২ | রবিবার


রাজধানীর মানিকদিতে ছিনতাই হওয়া ৩১ লাখ টাকা সন্তানদের কাছ থেকে উদ্ধারের পর ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে বাবাকে। ছিনতাই হওয়া পুরো টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি মূলহোতা বড় ছেলেকেও গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম। ছেলেরা এ ঘটনায় অনুতপ্ত হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও হামলা করতে পারে বলে আশঙ্কা মা-বাবার।
ছেলেদের ছিনতাই করা ৩১ লাখ টাকা ফেরত পেলেন বাবা, ফের হামলার আশঙ্কা
বুলবুল রেজা
প্রায় আড়াই মাস পর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে মা-বাবার সঙ্গে দেখা হওয়ার পর অনুতপ্ত হতে দেখা যায় বড় ছেলেকে। অথচ এ ছেলের নেতৃত্বেই তিন ছেলে মিলে হামলা করেছিলেন মা-বাবাকে। পিটিয়ে আহত করার পর ছিনিয়ে নেয় ৩১ লাখ টাকা। দুজনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এতদিন পলাতক থাকার পর শুক্রবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বাবার করা মামলায় বড় ছেলেকেও গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
তিনি বলেন, অনেক বড় ভুল করে ফেলেছি। মা-বাবা ভবিষ্যতে যেন আমাকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন।

তবে বাবা-মা দুজনেরই আশঙ্কা ছেলেরা কারাগার থেকে জামিনে বের হয়ে আবারও হামলা করবে তাদের ওপর।
তারা বলছেন, ‘এ ঘটনায় এলাকায় মানসম্মন সব শেষ হয়ে গেছে। মারাত্মকভাবে আমাদেরকে আঘাত করেছে। বের হয়ে তারা আমাদেরকে কী করবে, সেটা নিয়ে চিন্তায় আছি।’
গ্রেফতার তিন ছেলের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় পুরো ৩১ লাখ টাকা। উদ্ধার করা পুরো টাকা তুলে দেয়া হয় মা-বাবার কাছে।এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা পুরো টাকাটাই উদ্ধার করে ওই বৃদ্ধ মা-বাবাকে ফিরিয়ে দিয়েছি। এ ঘটনার জন্য তাদের ৩ সন্তানই দায়ী। মা-বাবার টাকা ছিনতাই করা এ ছেলেগুলো একদিনেই নষ্ট হয়নি। তারা অনেক দিন ধরেই এ পথে এসেছেন। মা-বাবার উচিত ছিল, ছেলেদের খোঁজখবর রাখা। তারা হয়ত সঠিকভাবে ছেলেদেরকে তত্ত্বাবধান করতে পারেননি।’পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘মা-বাবা আশঙ্কা করছেন, ছেলেরা জেল থেকে বের হয়ে আবারও হামলা করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের যদি কোনো কিছু ঘটে, তাহলে তাদেরকে আবারও গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে ‘ গত ২৮ জুন রাজধানীর মানিকদিতে শেষ সম্বল (জমি) বিক্রির ৩১ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন জয়নাল আবেদিন। ছিনতাইকারী ছিলেন তারই তিন ছেলে। ১৪ আগস্ট গ্রেফতার করা হয়েছিল ছোট ও মেজ ছেলেকে। পালিয়ে যায় বড় ছেলে। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর গ্রেফতার করা হয় বড় ছেলে হানিফকে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩২ বার

[hupso]